Showing posts with label Bangla. Show all posts
Showing posts with label Bangla. Show all posts

Friday, July 3, 2015

এটা আমি



WB-04 D1473 আমার নম্বর।  আমি একটা হলুদ ট্যাক্সি।  সারা দিন এই শহরে ঘুরে প্যাসেনজার কে ওদের ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া আমার কাজ।  বাপ্পাদা আমার চালক, ১০ বছর থেকে। আমাদের একটা সুন্দর সম্পর্ক, আমার আর বাপ্পাদার।

বাপ্পাদার কি খুশি যখন আমাকে প্রথম পেয়েছিলেন । ওনার ওই হাসি আমার এখনো মনের মধ্যে ভেসে আছে।  আমার ও খুব ভালোলেগেছিল।  ট্যাক্সি হয়ে  জন্মেছিলাম যখন, তখন একটা মনের মধ্যে ভয় ছিল যে কিরম হবে  আমার চালক।  বাপ্পাদা কে পেয়ে নিশ্চিন্ত হলাম।

আজ এত বছর পর যখন ভাবি, ভালো লাগে , যে কত কি দেখলাম, উপভোগ করলাম আর শিখলাম ।

নানা রকমের লোক আমার ব্যাক সিটে বসেছে, খুব মজা লাগত ওদের লক্ষ্য করতে। কেউ চুপ করে বসে থাকত, তো কেউ বাপ্পাদার সঙ্গে প্রচুর কথা বলত।  বাপ্পাদাও কথা বলতে খুব পছন্দ করেন। আমি শুনতাম।  বেশি করে রাজনীতি নিয়ে গল্প হত।  কিছু বুঝতাম কিছু বুঝতাম না।

আর কিছু ঝগড়া দেখেছি বাবা ।  কি ঝগড়া করতে পারে লোক জন।  সেইরমই হই হই করার ও প্রচুর লোক দেখেছি। আমিও একটু হেসে ফেলতাম মাঝে মাঝে। কিন্তু আমার বেস্ট লাগত যখন বাচা ছেলে মেয়েরা রোমন্যাস করত আমার ব্যাক সিটে।  আমি প্রথম চুমু থেকে শেষের ব্যথা সবই দেখেছি। আর কিছু কিছু জিনিস তো বলতেও লজ্জা লাগে।

সত্যি বলতে, আমিও একটা রোমন্যাস করে ফেলেছিলাম ।আরে লোকজন বোঝে না যে ট্যাক্সিদের ও ফীলিংস থাকে। আমাদের পাড়াতে ও থাকত।  প্রথম বার দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম। ও ও আমার মত একটা ট্যাক্সি। আমি জানতাম যে ও ও আমায় ভালো বাসে। এক দিন রাস্তায় ও আমার সামনে থেকে আসছিল।  আমি আর নিজে কে থামাতে পারলাম না।  ওকে হালকা করে কিস দিয়ে ফেললাম। তার পর বাপ্পাদা আর ওর চালকের মধ্যে যা গালাগাল হলো সে তো বলার কোনো দরকার নেই, কিন্তু ও হেসে ফেলেছিল।

তার পর থেকে ও যখনই আমার দিকে তাকাত, মিষ্টি হেসে দিত। সেই সময় বোধহয় আমার জীবনের বেস্ট টাইম ছিল - ফেব্রুয়ারী মাস ,বাপ্পাদা তখন আমার ড্যাশবোর্ডে নতুন ডেক লাগিয়ে ছিল , আমি প্রেম করছিলাম আর অদ্ভূত ভাবে সেই সময় অনেক প্যাসেনজার আমায় গঙ্গা ধারে এমনি  ড্রাইভ করতে নিয়ে যেত।  বেশ লাগত ওই লং ড্রাইভ গুলো করতে। ফুরফুরে হাওয়া দিত। চারপাশে গাছ পালা। কি যে ভালো লাগত।...

আমাদের রোমন্যাসও অনেক বছর চলল। ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এ যখনই ওর পাশে দাড়ানোর চানস পেতাম, খুব জোরে হর্ন দিতাম। ও কি লজ্জা পেত।

কিন্তু প্রায় ৪-৫ বছর হয়েছে ওর সঙ্গে আমার দ্যাখা হয়নি। কোথায় যে গ্যালো জানি না।  মাঝে মাঝে  ভেবে দুঃখ হয়।তার পর ভাবি, সাচ ইস লাইফ।

বাপ্পাদাও আমাকে খুব  যত্ন করে রেখেছে।  ভেবে ছিলাম সারা জীবন এইরমই কেটে যাবে।

কিন্তু কিছু দিন থেকে বাপ্পাদা একটু চিন্তায় আছেন।  সেদিন শুনলাম পান এর দোকানের সাইদুল এর সঙ্গে কথা বলতে। কিসব ওলা উবের বলছিলেন।  বুঝতে পারলাম না।

পরশু দিন ট্যাক্সি স্ট্যান্ডএ দাড়িয়ে ছিলাম।  টিঙ্কুদার ট্যাক্সি আমাকে বলল।  এই ওলা আর উবের না কি নতুন ধরনের ট্যাক্সি। বদ ট্যাক্সি।  এয়ার কন্ডিশন ট্যাক্সি। সেটা চালালে না কি অনেক ভাড়া পাওয়া যায়।

কিন্তু তা নিয়ে বাপ্পাদা যে কেন এত ব্যস্ত বুঝতে পারলাম না।  থাক।

সে কি! আজ শুনলাম বাপ্পাদা না কি ভাবছেন আমাকে আর চালাবেন না! ওই আজকে  গ্যারেজ নিয়ে গেছিলেন আমাকে।  তখন শুনলাম জিগ্গেস করতে যে আমার প্রত্যেক পার্টের দাম কত হবে।  বাপ্পাদা না কি এই বার থেকে উবের চালাবে।

না না এটা ঠিক হচ্ছে না!

বুঝতে পারছি যে আমার বয়েস হয়ে গেছে।  আমি জানতাম যে এক না এক দিন বাপ্পাদা আমায় ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এইরম আমার পার্ট গুলো আলাদা আলাদা করে বিক্রি করবেন? কেন?

এটার জন্য আমি কিন্তু রাজি নয়! এইরম ভাগ ভাগ হয়ে অক্কা পেতে আমি চাইছি না! কি করব!

বাপ্পাদা পানের দোকানে গেছে! ওই দেখো সামনে থেকে একটা বড় লরি আসছে! এই সাহসটা কি করব?

করে ফেলি... ব্রেক টাকে তুলে  দিলাম...

শেষ সুর...  আমার সবচে প্রিয়... ট্রামের  ঘন্টা... আর কিছু না...


***


ব্যাকরণ আর বানানের ভুল প্লি ক্ষমা করবেন।




Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...